Portable AC vs 1 Ton Split AC which one is affordable and best for rented house
তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে অনেকেই বাড়িতে AC লাগানোর কথা ভাবেন, কিন্তু তখন মাথায় প্রশ্ন আসে যে Portable AC নাকি Split AC, কোনটি কেনা উচিত হবে? বিশেষ করে, ভাড়াটিয়াদের মধ্যে এই প্রশ্ন বেশি দেখা যায়, কারণ সব ভাড়া বাড়িতে স্প্লিট এসি বসানো সম্ভব হয় না। অন্যদিকে, কোনো জটিল ইনস্টলেশন ছাড়াই পোর্টেবল এসি সহজে ব্যবহার করা যায়। যদিও দুটি ধরনের এসিই ঘর ঠান্ডা করার ক্ষেত্রে সমান কাজ করে, তবুও ঠান্ডা করার ক্ষমতা, বিদ্যুৎ খরচ, আওয়াজ এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ক্ষেত্রে এদের মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। আপনি যদি নতুন এসি কেনার কথা ভেবে থাকেন, তবে এই দুটির পার্থক্য বোঝা জরুরি।
1 টনের স্প্লিট এসিতে কম্প্রেসার এবং কনডেনসার বাইরের ইউনিটে থাকে, আর কেবল ইনডোর ইউনিটটি, যা ঠান্ডা হাওয়া দেয়। এই কারণে স্লিট এসি কম আওয়াজ করে এবং ঘরকে আরও ভালোভাবে ঠান্ডা করতে পারে। এর পাশাপাশি, পোর্টেবল এসিতে কম্প্রেসার, কনডেনসার এবং অন্যান্য সব পার্টস ঘরের ভেতরে রাখা একটি ইউনিটের মধ্যেই থাকে। গরম হাওয়া বের করে দেওয়ার জন্য এতে একটি এক্সহস্ট হোস বা পাইপ জানালা কিংবা ভেন্টের মধ্য দিয়ে বাইরে বের করতে হয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় ঘরের ভেতরে সামান্য ‘নেগেটিভ প্রেশার’ বা নিম্নচাপ তৈরি হয়, যার ফলে বাইরের গরম হাওয়া আবার ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে ঘর ঠান্ডা রাখতে পোর্টেবল এসিকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়।
বিদ্যুৎ খরচের দিক থেকে সাধারণত স্প্লিট এসিকেই বেশি ভালো বলে মনে করা হয়। একটি 1-টনের স্প্লিট এসি সাধারণত 900 থেকে 1100 ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে, যেখানে পোর্টেবল এসির ক্ষেত্রে এই খরচ 1200 থেকে 1500 ওয়াট পর্যন্ত হতে পারে। স্প্লিট এসিতে প্রায়শই BEE স্টার রেটিং এবং ভালো ISEER স্কোর থাকে, যার কারণে এর হাই-এফিসিয়েন্সি বেশি হয়। অন্যদিকে অধিকাংশ পোর্টেবল এসিতে কোনো স্টার রেটিং থাকে না। ফলে, পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়ে পোর্টেবল এসি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল অনেক বেশি আসতে পারে।
স্প্লিট এসির কম্প্রেসার বাইরে থাকায় এর ইনডোর ইউনিটটি কোনো আওয়াজ করেনা। এর বিপরীতে, পোর্টেবল এসির পুরো সিস্টেমটিই ঘরের ভেতরে থাকায় এতে আওয়াজ বেশি হয়। এছাড়া, স্প্লিট এসি ঘরের তাপমাত্রা আরও স্টেবল রাখে এবং আর্দ্রতা আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে যা বিশেষ করে ভ্যাপসা বা আর্দ্র আবহাওয়ায় বেশ সুবিধাজনক।
স্প্লিট এসি ইনস্টল করার জন্য প্রোফেশনালদের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে রয়েছে দেয়ালে ড্রিল করা, ইনডোর ও আউটডোর ইউনিট বসানো এবং পাইপিং বা কানেকশনের কাজ। ভারতে 1-টন স্প্লিট এসির প্রাথমিক দাম সাধারণত 28,000 থেকে 35,000 টাকার মধ্যে হয়ে থাকে এবং ইনস্টলেশন খরচ এর সাথে আলাদাভাবে যুক্ত হয়।
অন্যদিকে, পোর্টেবল এসির ক্ষেত্রে কোনো ইনস্টলেশনের প্রয়োজন হয় না এবং এগুলো সহজেই এক ঘর থেকে অন্য ঘরে স্থানান্তর করা যায়। তবে এগুলোর দামও প্রায় 30,000 টাকা বা তার বেশি হতে পারে এবং এগুলোতে সাধারণত বিদ্যুৎ খরচ বেশি হয়।
আরও পড়ুন: 8000mAh ব্যাটারি সহ আসবে OnePlus এর সবচেয়ে সস্তা 5G স্মার্টফোন, ভারতে চলতি মাসের শেষে হবে লঞ্চ
আপনার বাড়িতে যদি স্প্লিট এসি বসানোর মতো উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকে, তবে প্রায় সব দিক থেকেই এটিকে সেরা পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি কম বিদ্যুৎ খরচ করে, কম আওয়াজে কাজ করে এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আপনার টাকা বাচায়। তবে আপনি যদি ভাড়া বাড়িতে থাকেন, আউটডোর ইউনিট বসানোর মতো জায়গা না থাকে অথবা বিভিন্ন ঘরে এসি ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে পোর্টেবল এসি একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। তবে কেনার আগে পোর্টেবল এসির বেশি বিদ্যুৎ খরচ এবং তুলনামূলক কম কার্যক্ষমতার বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখবেন।