Free and public wifi mistakes that can hack your phone tips and tricks
বাড়ি, অফিস, ক্যাফে, শপিং মল কিংবা এয়ারপোর্ট-এখন প্রায় সব জায়গাতেই ফ্রি WiFi পাওয়া যায়। ইন্টারনেট ডেটা বাঁচাতে অনেকেই চোখ বন্ধ করে এই নেটওয়ার্কে ফোন কানেক্ট করে ফেলেন। কিন্তু জানেন কি, এই ছোট্ট অভ্যাসই অনেক সময় আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরির বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে?
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক নিরাপদ নয়। বিশেষ করে পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় কয়েকটি সাধারণ ভুল করলে হ্যাকাররা আপনার ফোনে থাকা তথ্য, পাসওয়ার্ড এমনকি ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্যও হাতিয়ে নিতে পারে। তাই ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন, তা জেনে নেওয়া যাক।
অনেক সময় এয়ারপোর্ট, রেস্টুরেন্ট বা ক্যাফের নাম ব্যবহার করে হ্যাকাররা নকল ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক তৈরি করে। যেমন, আসল নেটওয়ার্কের নাম যদি Cafe_Free_WiFi হয়, তাহলে তারা Cafe_Free_Wifi_5G বা কাছাকাছি নাম ব্যবহার করতে পারে। আপনি ভুল করে সেই নেটওয়ার্কে কানেক্ট করলে আপনার ইন্টারনেট ব্যবহার নজরদারির আওতায় চলে যেতে পারে।
কী করবেন?
ওয়াই-ফাই ব্যবহারর করার আগে সঠিক নেটওয়ার্কের নাম যাচাই করে নিন। Password ছাড়া ওপেন ওয়াই-ফাই এড়িয়ে চলুন।
ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় অনেকেই Google Pay, PhonePe, Paytm বা Net Banking খুলে টাকা পাঠিয়ে দেন। এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
যদি নেটওয়ার্ক নিরাপদ না হয়, তাহলে আপনার তথ্য মাঝপথে আটকানোর চেষ্টা হতে পারে। যদিও বেশিরভাগ ব্যাঙ্কিং অ্যাপ শক্তিশালী এনক্রিপশন ব্যবহার করে, তবুও অচেনা পাবলিক নেটওয়ার্কে আর্থিক লেনদেন না করাই ভাল।
অনেক ফোনে একবার কোনও ওয়াই-ফাই ব্যবহার করলে পরে সেটি নিজে থেকেই কানেক্ট হয়ে যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একই নামে ভুয়ো ওয়াই-ফাই তৈরি করলে আপনার ফোন অজান্তেই সেটিতে কানেক্ট হয় যেতে পারে।
কী করবেন?
Settings > Wi-Fi > Auto Connect বা Auto Join অপশন বন্ধ রাখুন। ব্যবহার শেষে নেটওয়ার্কটি “Forget” করে দিন।
ওয়াই-ফাই-তে কানেক্ট হওয়ার পর কোনও ওয়েবসাইট খুললে ব্রাউজারের ঠিকানার শুরুতে https:// এবং তালা চিহ্ন আছে কি না খেয়াল করুন। যদি শুধুমাত্র http:// দেখা যায়, তাহলে সেখানে ব্যক্তিগত তথ্য বা পাসওয়ার্ড লিখবেন না।
VPN (Virtual Private Network) আপনার ইন্টারনেট কানেকশনকে অতিরিক্ত সুরক্ষা দেয়। এতে আপনার ডেটা এনক্রিপ্ট হয়ে যায়, ফলে অন্য কেউ সহজে তা পড়তে পারে না।
নিয়মিত পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করলে একটি বিশ্বস্ত VPN ব্যবহার করা ভালো।
ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় অনেকেই Bluetooth বা Nearby Share অন করে রেখে দেন। এতে অচেনা ডিভাইস থেকে কানেক্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ওয়াই-ফাই ব্যবহার না করলে Bluetooth, Nearby Share এবং File Sharing বন্ধ রাখুন।
পুরনো Android বা iOS ভার্সনে সিকিউরিটি কম থাকতে পারে। তাই নিয়মিত Security Update ও System Update ইনস্টল করুন। অনেক সময় একটি আপডেটই বড় ধরনের নিরাপত্তা সমস্যা থেকে রক্ষা করতে পারে।
নিচের কাজগুলো মোবাইল ডেটা ব্যবহার করে করাই ভালো-
ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় নিরাপদ থাকার জন্য এই জিনিসগুলি মাথায় রাখুন।
অনেকে মনে করেন, ফোনে অ্যান্টিভাইরাস থাকলেই সব ধরনের হ্যাকিং থেকে সুরক্ষিত থাকা যায়। বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যা হয় ব্যবহারকারীর অসতর্কতার কারণে। ভুল ওয়াই-ফাই-তে কানেক্ট করা, অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করা বা ভুয়ো লগইন পেজে তথ্য দেওয়ার মতো ভুল থেকেই বড় ধরনের সাইবার প্রতারণা ঘটে।
শেষ কথা
পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা মানেই বিপদ—এমন নয়। তবে নিরাপত্তার কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চললে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। তাই পরের বার কোনও ফ্রি Wi-Fiওয়াই-ফাই-তে কানেক্ট করার আগে একবার ভেবে নিন। কয়েক সেকেন্ডের সতর্কতাই আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ ডেটাকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।