Air Cooler Buying Guide How to Choosing the right air cooler
Air Cooler Buying Guide: গরমের পারদ চড়তেই বাড়ির সবাই একটু স্বস্তির খোঁজ শুরু করে দেন। আর এই সময়ে এয়ার কুলার হয়ে ওঠে পকেট-ফ্রেন্ডলি এবং অত্যন্ত কাজের একটি অপশন। তবে বাজার থেকে যেকোনো একটা কুলার কিনে আনলেই কিন্তু কাজ শেষ হয়ে যায় না। আসল তফাতটা তখনই বোঝা যায়, যখন আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক কুলারটি বেছে নিতে পারবেন। অনেকেই ভাবনা-চিন্তা না করে কুলার কিনে ফেলেন, আর পরে দেখা যায় ঘর ঠিকঠাক ঠান্ডা হচ্ছে না অথবা ঘরের মধ্যে গুমোট ভাব (উমস) বেড়ে গেছে।
তাই গরমে শান্তি পেতে কুলার কেনার আগে কোন কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি, তার একটি সহজ গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো:
কুলারের হাওয়া দেওয়ার ক্ষমতা মাপা হয় CFM (Cubic Feet per Minute) দিয়ে। এর মানে হলো কুলারটি প্রতি মিনিটে কতটা হাওয়া ছড়াতে পারে। সঠিক কুলার বেছে নেওয়ার সহজ নিয়ম হলো- প্রথমে আপনার ঘরের আকার, প্রস্থ এবং উচ্চতা গুণ করে ঘরের মোট ভলিউম (আয়তন) বের করুন, তারপর তাকে 2 দিয়ে ভাগ করুন। যে সংখ্যাটি আসবে, সেই ক্ষমতার কুলারই আপনার ঘরের জন্য পারফেক্ট। বড় ঘরের জন্য স্বাভাবিকভাবেই বেশি CFM যুক্ত কুলার প্রয়োজন।
কুলারের জলের ট্যাঙ্ক যত বড় হবে, বারবার জল ভরার ঝামেলা ছাড়াই তত বেশি সময় ধরে ঘর ঠান্ডা থাকবে।
ছোট ঘরের জন্য: 15 থেকে 30 লিটারের ট্যাঙ্ক যথেষ্ট।
মাঝারি ঘরের জন্য: 30 থেকে 60 লিটারের ট্যাঙ্ক লাগবে।
বড় ঘরের জন্য: ৬০ लीटर বা তার বেশি ক্ষমতার ট্যাঙ্ক নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
আজকাল অনেক কুলারে ‘অটো-ফিল’ ফিচার থাকে, যার ফলে পাইপ জোড়া থাকলে জল নিজে থেকেই ভরে যায়।
বাজারে সাধারণত তিন ধরনের কুলার পাওয়া যায়:
পার্সোনাল কুলার: এগুলো আকারে ছোট হয় এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বা ছোট ঘরের জন্য দারুণ। এতে বিদ্যুৎ খরচও বেশ কম হয়।
টাওয়ার কুলার: এগুলো লম্বাটlinear এবং স্লিম ডিজাইনের হয়। মাঝারি সাইজের ঘরের জন্য এবং কম জায়গায় রাখার জন্য এগুলো আদর্শ।
ডেজার্ট কুলার: এগুলো মূলত বড় ঘর এবং শুকনো আবহাওয়ার জায়গার জন্য তৈরি। এগুলোর জলের ট্যাঙ্ক এবং ফ্যান- দুটিই বেশ বড় ও শক্তিশালী হয়।
কুলার কতটা ঠান্ডা হাওয়া দেবে, তা নির্ভর করে এর ভেতরের কুলিং প্যাডের ওপর। আজকাল হনিকম্ব (Honeycomb) প্যাড সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এগুলো বেশি জল ধরে রাখতে পারে এবং সহজে নষ্ট হয় না (প্রায় ২-৩ বছর চলে যায়)। ফলে ঘর দ্রুত এবং দীর্ঘসময় ঠান্ডা থাকে।
এসি (AC)-র তুলনায় কুলারে বিদ্যুৎ খরচ অনেক কম হলেও কেনার আগে ওয়াট (Watts) চেক করে নেওয়া ভালো। কম ওয়াটের কুলার নিলে কারেন্ট বিল আরও কম আসবে। আপনার এলাকায় যদি ঘন ঘন লোডশেডিং হয়, তবে ইনভার্টার সাপোর্ট করে এমন কুলার কিনুন। এছাড়া বাজারে এখন BLDC মোটর যুক্ত কুলার পাওয়া যায়, যা অত্যন্ত কম বিদ্যুতেও দারুণ পারফর্ম করে।
কুলার কেনার সময় তার বডি প্লাস্টিকের নাকি মেটালের, তা দেখে নিন। মজবুত বডির কুলার দীর্ঘদিন টেকসই হয়। এছাড়া কুলারের নিচে যেন ভালো মানের চাকা (Caster Wheels) থাকে, যাতে প্রয়োজনে সহজেই এক ঘর থেকে অন্য ঘরে কুলারটি নিয়ে যাওয়া যায়।
আজকালকার স্মার্ট কুলারগুলোতে বেশ কিছু অ্যাডভান্সড ফিচার পাওয়া যায়, যা আপনার কাজ আরও সহজ করে দেবে:
রিমোট কন্ট্রোল: বিছানা বা সোফা থেকে না उठেই কুলার অন-অফ বা স্পিড কন্ট্রোল করা যায়।
আইস চেম্বার (Ice Chamber): কুলারের ওপরের দিকে বরফ রাখার জায়গা থাকে, যেখানে বরফ দিলে নিমেষেই কনকনে ঠান্ডা হাওয়া পাওয়া যায়।
টাইমার ফিচার: রাতে ঘুমানোর সময় টাইমার সেট করে রাখলে নির্দিষ্ট সময় পর কুলার নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়।