শীঘ্রই আসছে WhatsApp Username ফিচার? কী এই ফিচার, কীভাবে কাজ করবে এবং কী কী ঝুঁকি থাকতে পারে?
WhatsApp তার গ্রাহকদের জন্য নতুন নতুন ফিচার অফার করতে থাকে। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ ইউজারদের প্রাইভেসি কথা মাথায় রেখে নতুন Username ফিচার শীঘ্রই চালু করার কথা জানিয়েছে। ইউজারনেম ফিচারটি অনেকটা Telegram বা Instagram-এর মতো কাজ করবে। এই ফিচারের মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের ফোন নম্বর না জানিয়ে অন্যদের সঙ্গে চ্যাট বা মেসেজ করা যাবে। তবে এই ফিচারটি রোলআউট হওয়ার আগেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী এই ফিচারের সম্ভাব্য প্রাইভেসি ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এর পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে Meta কে নোটিস জারি করা হয়েছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক হোয়াটসঅ্যাপ ইউজারনেম ফিচারটি কী এবং এতে কী কী ঝুঁকি রয়েছে।
SurveyWhatsApp Username ফিচার কী?
এখন পর্যন্ত হোয়াটসঅ্যাপে কাউকে মেসেজ পাঠানোর জন্য তার মোবাইল নম্বর সেভ করতে হয়। ইউজারনেম ফিচার চালু হলে গ্রাহকরা নাম দিয়ে খুঁজে মেসেজ করতে পারবেন। যার মানে আপনার ফোন নম্বরটি গোপন রেখেও অন্যের সাথে কথা বলতে পারবেন। এতে বিশেষ করে ব্যবসায়ী, ফ্রিল্যান্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং যাঁরা ব্যক্তিগত নম্বর সবার সঙ্গে শেয়ার করতে চান না, তাঁদের জন্য এটি বেশ উপকারী হবে। এরপর যে কেউ সেই ইউজারনেম দিয়ে সার্চ করে সরাসরি মেসেজ পাঠাতে পারবেন। ফোন নম্বর আর শেয়ার করতে হবে না।
WhatsApp Username ফিচারের সুবিধা কী কী
- ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর গোপন রাখা যাবে।
- নতুন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সহজ হবে।
- ব্যবসায়িক কাজে নম্বর প্রকাশ না করেও WhatsApp ব্যবহার করা যাবে।
- সোশ্যাল মিডিয়ায় ফোন নম্বরের বদলে শুধু ইউজারনেম শেয়ার করলেই হবে।
- প্রাইভেসি আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
তবে ইউজারনেম ফিচারে কোথায় কোথায় ঝুঁকি আছে?
এই ফিচারটি যতটা সুবিধাজনক, ঠিক ততটাই কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। এই বিষয়গুলো না জানলে বিপদে পড়তে পারেন।
- স্প্যাম ও অপরিচিত মেসেজ বাড়বে
এই ফিচারে ফোন নম্বর ছাড়াই কেউও আপনাকে মেজেজ পাঠাতে পারবে। সেই ক্ষেত্রে স্প্যামের পরিমাণ অনেক বেড়ে যেতে পারে। এতদিন মেসেজ করার আগে ফোন নম্বর প্রয়োজন হত। কিন্তু ইউজারনেম পাবলিক থাকলে যে কেউ মেসেজ পাঠাতে পারবে।
- হ্যারাসমেন্টের ঝুঁকি বাড়তে পারে
ইউজারনেম সহজে খোঁজা যাবে বলে অনাকাঙ্ক্ষিত মেসেজ বা হয়রানির আশঙ্কা বাড়তে পারে। বিশেষ করে মহিলা ব্যবহারকারীদের জন্য এটি একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হতে পারে।
- ভুয়া ইউজারনেম তৈরির সুযোগ
কেউ আপনার নাম বা পরিচিত কোনো ব্যক্তির নামে মিলিয়ে একটি ইউজারনেম তৈরি করতে পারে এবং মানুষকে ধোঁকা দিতে পারে। যেমন কেউ @rahul_sharma নামে ইউজারনেম বানিয়ে আপনার পরিচিতদের মেসেজ করতে পারে।
- প্রাইভেসি বা গোপনীয়তা কমে যাওয়া
অনেকেই ফোন নম্বর শেয়ার করতে চান না, তাই ইউজারনেম ভালো মনে হতে পারে। কিন্তু মনে রাখবেন, ইউজারনেম থাকলে আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যান্য আইডি বা পরিচিতি খুঁজে বের করা হ্যাকারদের জন্য সহজ হয়ে যেতে পারে। আপনার নামের সাথে মিল রেখে কেউ সহজেই ইন্টারনেটে আপনার সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করতে পারবে।
- Privacy Settings ঠিকমতো না বুঝলে বিপদ
অনেক ইউজার Privacy Settings সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নন। Username পাবলিক রেখে দিলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই ফিচারটি চালু করার আগে সেটিংস ভালো করে বোঝা জরুরি।
নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন কীভাবে?
এই ফিচার ব্যবহার করলে কিছু বিষয় মাথায় রাখা উচিত –
ইউজারনেম সহজ বা পরিচিত রাখবেন না – নিজের আসল নাম বা জন্ম তারিখ দিয়ে ইউজারনেম তৈরি করবেন না। এতে সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়।
Privacy Settings ঠিকমতো সেট করুন – কে আপনাকে মেসেজ করতে পারবে, সেটা নিজে কন্ট্রোল করুন। শুধু পরিচিতদের মেসেজ করার অনুমতি দিন।
অপরিচিত মেসেজ এড়িয়ে চলুন – অজানা ইউজারনেম থেকে মেসেজ এলে কোনো লিঙ্কে ক্লিক করবেন না এবং ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না।
দ্রুত রিপোর্ট করুন – কেউ হয়রানি করলে বা সন্দেহজনক মেসেজ এলে সাথে সাথে Block ও Report করুন।
নিয়মিত সেটিংস চেক করুন – WhatsApp আপডেটের সাথে সাথে প্রাইভেসি সেটিংসও আপডেট হতে পারে। তাই মাঝে মাঝে চেক করে দেখুন সব ঠিকঠাক আছে কিনা।
Joyeeta Bhattacharya fell in love with technology at an early age, believing that technology was the secret to unlock India's limitless potential. She is currently Assistant Editor - Bangla at Digit. View Full Profile
