ভারতে চিরকালের জন্য ব্যবসা বন্ধ করার ঘোষণা করল চিনা সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থা এবং TikTok-এর মাদার সংস্থা বাইটডান্স (Bytedance)। ভারতে টিকটক এবং হেলো অ্যাপের মালিকানা এই সংস্থার কাজ পুরোপুরি বন্ধ হতে চলেছে। ভারত-চিন সংঘর্ষের পরেই চিনা অ্যাপের উপর সার্জিকাল স্ট্রাইক করে কেন্দ্র সরকার। যার ফলে টিকটক সহ একগুচ্ছ চিনের অ্যাপ ভারতে নিষিদ্ধ করে দেয় সরকার। এর পাশাপাশি কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের জেরে প্রায় 2 হাজারের বেশি যুবক-যুবতী কাজহারাতে চলেছে।
বুধবারই কর্মীদের ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাইটডান্স (Bytedance) সংস্থা। বলে দি যে বাইটডান্স-এর একাধিক অ্যাপ ভারতে ব্যবহার করা হয়। টিকটকের আন্তর্জাতিক অন্তর্বর্তী প্রধান ভেনেসা পাপ্পাস এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়িক সমাধানের সহ-সভাপতি ব্লেক চ্যান্ডলি কর্মচারীদের কাছে পাঠানো একটি ইমেলে কোম্পানির সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানিয়েছে যে সংস্থা তাদের কর্মী ছাঁটাই করতে চলেছে। এর ফলে কাজ হারাতে চলেছে 2 হাজারে বেশি ভারতীয় কর্মী।
এদিন সকালে বাইটডান্সের অন্তবর্তী সিইও ভেনেসা পাপ্পাস এবং ভিপি ব্লেক শ্যান্ডলে জানান, “আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম যাতে এ দেশের আইন-কানুন মেনে আমরা কাজ করতে পারি। গত সাত মাস যাবৎ প্রশাসনের সমস্ত অভিযোগের সঠিক জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তারপরেও আমরা কাজ শুরুর ছাড়পত্র পেলাম না। কবে আবার এই অ্যাপ ভারতে ফিরবে তা স্পষ্ট নয়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এরপর তাঁরা আরও জানান, “গত ৬ মাস ধরে দু’হাজারের বেশি কর্মীদের পাশে ছিল সংস্থা। কিন্তু এবার সংস্থার খরচ কমাতেই হবে। তবে টিকটককে ফের বাজারে ফেরানো চেষ্টা করব।”
বলে দি যে কয়েকদিন আগেই কেন্দ্র জানিয়েছে যে সরকার চিনা অ্যাপ টিকটক, হ্যালোর জবাবে তারা সন্তুষ্ট নয়। ফলে অ্যাপগুলি বরাবরের মতো নিষিদ্ধ করে দেওয়া হল। বেজিং-এর তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, “ভারতের এই পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্য চুক্তিকে লঙ্ঘন করছে। চিনের সংস্থাগুলিও ধাক্কা খাবে।”
উল্লেখ্য, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থাগুলি অভিযোগ করেছিল, একাধিক অ্যাপ ভারতীয়দের তথ্য চুরি করছে। এরপরই ৫৯টি অ্যাপ (App) নিষিদ্ধ করেছিল মোদি-সরকার। একইসঙ্গে অ্যাপগুলিকে নোটিস ধরিয়েছিল কেন্দ্র।