Android এবং Google-র মধ্যে সম্পর্ক এক্কেবারে টোস্ট- জেলির মতন। অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের সাথে আসা গুগলের বিল্ট ইন অ্যাপগুলিকে সরিয়ে ফেলা না গেলেও, বেশ কিছু অ্যাপ রয়েছে যেগুলি হতে পারে গুগলের অ্যাপগুলির দারুণ অলটারনেটিভ।
প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই থাকে Google PlayStore। সেইসঙ্গে Google search, Gmail, Chrome, YouTube- র মতন অনেক অ্যাপ আসে নতুন ফোনের সাথে। তবে আজ আমরা আপনার জন্য এনেছি গুগলের সমস্ত বিল্ট- ইন অ্যাপের অলটারনেটিভ বেশ কয়েকটি অ্যাপের খোঁজ। Google অ্যাপ ইউজ করতে না চাইলে এক্কেবারে নির্দ্বিধায় বেছে নিতে পারেন এই অ্যাপগুলিকে। দেখে নিন লিস্ট-
এটি একটি সার্চ ইঞ্জিন অ্যাপ যাকে আমরা এককথায় Google Search অ্যাপের অলটারনেটিভ বলতে পারি। এই অ্যাপ বেছে নেওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে আমরা বলতে পারি প্রাইভেসির কথা। কেননা Google Search অ্যাপে যে সমস্ত বিষয়ে ব্রাউজ করা হয়। সেগুলিকে অ্যানালাইসিস করে গুগল অ্যাড পাঠায় ইউজারদের। কিন্তু DuckDuckGo অ্যাপে ইউজার প্রাইভেসি অনেক বেশ নিরাপদ। তবে এই অ্যাপের সার্চ রেজাল্ট গুগলের মতন দুর্দান্ত না হলেও প্রাইভেসির দিকটা মাথায় রাখলে বেশ ভালো অপশনই মনে করা যায়।
Google Chrome অ্যাপের অলটারনেটিভ বলা যেতে পারে Microsoft Edge অ্যাপ্লিকেশনকে। দুটি সার্চ ইঞ্জিনই Chromium নির্ভর। Microsoft Edge অ্যাপের ব্যাকএন্ড এক্কেবারে গুগল ক্রোমের মতনই। দুটি অ্যাপের বেশিরভাগ ফিচারেই রয়েছে মিল। মাইক্রোসফট এডজেস অ্যাপে ট্যাব এবং ডেটা হিস্ট্রিকে সহজেই মোবাইল এবং ডেস্কটপে সিঙ্ক করা যায়। এতে রয়েছে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার এবং বিল্ট-ইন অ্যাড ট্র্যাকার এবং ব্লকিং ফিচার।
Gmail, আজকের ইমেইল পাঠানোর জন্য সবার পছন্দের হলেও, মাইক্রোসফটের Outlook অ্যাপ কিন্তু খুব একটা কম যায়না। Gmail – র মতনই আউটলুক অ্যাপে রয়েছে প্রায়োরিটি ইনবক্স ফিচার, যাতে স্টোর হবে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ মেইল। এছাড়াও অন্যান্য মাইক্রোসফট সার্ভিস যেমন- Microsoft Office বা Teams –র সাথেও যুক্ত হয়ে কাজ করবে। এই অ্যাপের সেরা ফিচার হল ইমেইলের রিড আউট লাউড ফিচার।
কোনো জায়গার লোকেশন খুঁজে বের করার জন্য Google Maps অ্যাপের সেরা বিকল্প অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য খুব একটা না পাওয়া গেলেও, এমন কিছু অ্যাপ রয়েছে যা গুগলের নিজস্ব ম্যাপ অ্যাপ্লিকেশনের ফিচারের অনেকটা কাছাকাছি। OsmAnd অ্যাপকে এই ধরণের অ্যাপগুলির মধ্যে সেরা বলা যেতেই পারে। এই অ্যাপ্লিকেশনে রয়েছে অফলাইন ম্যাপের ফিচার। এটি OpenStreetMap নির্ভর একটি ওপেন সোর্স অ্যাপ। গুগল ম্যাপের মতন দারুণ কাজ না করলেও, অনেক নতুন ফিচারের সাথে আসা এই অ্যাপকে ভালো অলটারনেটিভ বলা যেতেই পারে।
Google Photos অ্যাপ ফটো সার্ভিস অ্যাপ্লিকেশনের জন্য এক্কেবারে টপে থাকলেও এই অ্যাপেরও রয়েছে বেশ কয়েকটি বিকল্প। মাইক্রোসফটের OneDrive অ্যাপকে গুগল ফটোস অ্যাপের বেশ যোগ্য অল্টারনেটিভ মনে করা যেতে পারেই। তবে মাইক্রোসফট ছাড়া, অ্যামাজনের Amazon Photos অ্যাপও ভালো অপশনের মধ্যে পড়ছে। এই অ্যাপ্লিকেশনের ইউজারদের 5GB ফ্রি স্টোরেজের অ্যাক্সেস দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে অ্যামাজন প্রাইমের সাবস্ক্রাইবারেরা পাবেন আনলিমিটেড ফটো স্টোরেজের ফিচার। Google Photos অ্যাপের মতনই মোবাইল ক্যামেরাতে থাকা সমস্ত ফটোকে অটোমেটিকভাবে ব্যাকআপ করা যাবে এই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে।
Google Drive অ্যাপ্লিকেশন লঞ্চ হবার আগে ক্লাউড স্টোরেজ অ্যাপগুলির মার্কেটে রাজত্ব করতো Dropbox অ্যাপ। এখনো এই অ্যাপকে গুগল ড্রাইভের সেরা অলটারনেটিভ মানা হয়। গুগল ড্রাইভ এবং ড্রপবক্স অ্যাপের খরচ খানিকটা একইরকমেরই। দুটি অ্যাপের 2TB স্টোরেজের জন্য প্রতিমাসে খরচ করতে হয় 9.99 ডলার। এই অ্যাপে গুগল ড্রাইভের সমস্ত ফিচার পাওয়া যাবে না। তবে খুব সহজেই সিঙ্ক করা যাবে কম্পিউটারের সাথে।